দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নবম জাতীয় বেতনকাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণের পাশাপাশি জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের তিন মাসের বকেয়া বেতন বা অ্যারিয়ার হিসাবও করা হচ্ছে। আইবাস প্লাস প্লাস (iBAS++) পোর্টালে অনলাইন পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার পরই নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতন এবং আগের তিন মাসের বকেয়ার হিসাব নির্ধারণ করা হবে। ফলে পে ফিক্সেশন শেষ হলে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেতন ও প্রাপ্য বকেয়ার পরিমাণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন।
অর্থ বিভাগ সূত্রের জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হওয়ায় পুরোনো ও নতুন মূল বেতনের পার্থক্যের ভিত্তিতে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের বকেয়া হিসাব করা হবে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে এ বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা করা হতে পারে। তবে সব সরকারি চাকরিজীবীর বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড, বর্তমান পদ, মূল বেতন এবং নতুন বেতনকাঠামোয় নির্ধারিত মূল বেতনের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে অ্যারিয়ারের পরিমাণ নির্ধারিত হবে।
আইবাস++-এ পে ফিক্সেশন যেভাবে
পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মতারিখ, বর্তমান ও আগের পদবি, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, বর্তমান মূল বেতন এবং পদোন্নতি বা সিলেকশন গ্রেডসংক্রান্ত তথ্য ও অফিস আদেশ।
অনলাইন পে ফিক্সেশন ক্ষেত্রে
তথ্য ইনপুট ও যাচাই: এনআইডি ও অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে পে ফিক্সেশন পোর্টালে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর মিলিয়ে তথ্য যাচাই করতে হবে।
হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অনুমোদন: তথ্য ইনপুটের পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়—সিএএফও, ডিসিএ, ডিএএফও বা ইউএও—তথ্য যাচাই ও অনুমোদন করবে।
কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ: পে ফিক্সেশন প্রক্রিয়ায় জটিলতা এড়াতে ‘সেবা দেওয়ার সক্ষমতা অর্জনে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচি’ (এসপিএফএমএস)-এর আওতায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
নতুন বেতনকাঠামো
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে তিন ধাপে এটি কার্যকর হবে।
প্রথম ধাপ: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পুরোনো ও নতুন মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ কার্যকর হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত বেতন পার্থক্যের ৭০ শতাংশ কার্যকর হবে।
তৃতীয় ধাপ: ১ জুলাই ২০২৭ থেকে নতুন মূল বেতনের ১০০ শতাংশ কার্যকর হবে।
এ ছাড়া নতুন বেতনকাঠামোর বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি অর্থবছরে মূল বেতনের ৭০ শতাংশ সুবিধা দিতে বাজেটে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
উচ্চতর গ্রেডে নতুন নিয়ম
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী সরকারি কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ৮ বছর চাকরি পূর্ণ করলে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এরপর একই পদে আরও ৬ বছর চাকরি পূর্ণ হলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
তবে আগের বেতনস্কেলে যারা ইতোমধ্যে দুই বা তার বেশি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর স্কেলের সুবিধা পেয়েছেন, তারা নতুন বেতনকাঠামোয় অতিরিক্ত উচ্চতর গ্রেড পাবেন না।
আর যারা আগের স্কেলে একটি উচ্চতর স্কেল পেয়েছেন, তারা একই পদে ৬ বছর চাকরি পূর্ণ করার শর্তে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা পাবেন।
কার বকেয়া কত?
তিন মাসের বকেয়া নির্ধারণ হবে পুরোনো মূল বেতন ও নতুন কাঠামোয় প্রাপ্য মূল বেতনের পার্থক্য অনুযায়ী। ফলে একই গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রেও চাকরির মেয়াদ, বর্তমান মূল বেতন, পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্য ভেদে বকেয়ার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
অর্থাৎ, নির্দিষ্টভাবে কার কত টাকা বকেয়া হবে তা জানতে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর গ্রেড ও বর্তমান মূল বেতন অনুযায়ী পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।
কেএম